সোমবার, ৭ মার্চ, ২০১৬

মনের মতো বউ চাই ? 

মনের মতো বউ চাই? পেঁড়া-টোপরে মহাদেবকে তুষ্ট করতে হয়।

৮ই মার্চ, ২০১৬
মহা‌যোগী রণবীর নাথ

শিবরাত্রির দিন বৈদ্যনাথধামে মহাসমারোহে শিব-পার্বতীর বিয়ে হয়। শিবরাত্রির কয়েক দিন আগে পার্শ্ববর্তী রোহিনী গ্রামে তৈরি হয় হাজার হাজার টোপর।
 
শিবের মতো স্বামী পেতে মহিলারা পালন করেন ষোলো সোমবার। শিবের মাথায় ফুল-জল-দুধ ঢালেন মহিলা ভক্তকুল। সারাদিনের উপবাস, কৃচ্ছসাধন করে তবে মহাশিবরাত্রি পালন। কিন্তু শুধু মহিলারাই নন, পুরুষরাও পার্বতীর মতো সুন্দরী এবং পতিব্রতা স্ত্রীর স্বপ্ন দেখেন! তাই মহাশিবরাত্রি শুধুই মহিলাদের জন্য নয়? পুরুষ ভক্তদেরও একই রকম মনস্কামনা থাকতে পারে।

ঝাড়খণ্ডের দেওঘরের বৈদ্যনাথধামে মহাশিবরাত্রিতে বিশেষ পুজোর আয়োজন করা হয়। শিবরাত্রির দিন বৈদ্যনাথধামে মহাসমারোহে শিব-পার্বতীর বিয়ে হয়। শিবরাত্রির কয়েক দিন আগে পার্শ্ববর্তী রোহিনী গ্রামে তৈরি হয় হাজার হাজার টোপর। লাল, নীল, সবুজ— নানা রঙের, নানা আকারের টোপর। শুধু উপবাস করে শিবের মাথায় দুধ ঢাললেই হবে না। মনস্কামনা নিয়ে যে পুরুষরা দেওঘরে আসেন, তাদের এই টোপরটি চড়াতে হবে বাবার মাথায়। মাত্র দশ টাকার এই টোপরটি নাকি বিয়ের পিঁড়িতে উৎসাহী পাত্রের ভাগ্যই বদলে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। শুধু বিয়ে নয়, সুন্দরী বউয়ের মনস্কামনা থাকলে অংশগ্রহণ করতে হয় চার প্রহরের পূজায়। যেখানে দুধ, ঘি, আবির, চন্দন দিয়ে বাবা বৈদ্যনাথের বিশেষ পুজো হয়। যাকে বলা হয় অভিষেকায়ন।

এছাড়াও সাংসারিক শান্তি এবং দাম্পত্য জীবনে সুখ নিশ্চিত করতেও একাধিক পুজো এবং উপচার রয়েছে বৈদ্যনাথধামে। মহাশিবরাত্রিতে দেওঘরে আসবেন আর মিষ্টি মুখ করবেন না? ভারতের বিখ্যাত পেঁড়া প্রসাদ রয়েছে এখানে। কারণ কোনও ফলমূল নয়, দেওঘরের পুজোর ডালিতে শুধু পেঁড়া প্রসাদই থাকে, এটাই নিয়ম।

যদি মহিলা ভক্তকুলের মতো কৃচ্ছসাধন না করতে পারেন, খালিপেটে উপবাস যদি সহ্য না হয় তবে দিনভর পেঁড়া খেয়ে কাটিয়ে দিন। আর পুজো করতে থাকুন চার প্রহর পর্যন্ত। কারণ, দেওঘরের পেঁড়া তৈরি হয় চিনি ছাড়া বিশুদ্ধ খোওয়া দিয়ে। বাবা বৈদ্যনাথের কৃপায় পেঁড়া খাওয়ার ছাড় রয়েছে ভক্তদের জন্য।